English

সিরাতুল মুস্তাকীম ইসলামিক একাডেমী (চাঁদপুর শাখা)

প্রধান শিক্ষকের বাণী

হাফেজ, মাওলানা মোঃ শাব্বীর আহমাদ - প্রধান শিক্ষক

بسم الله الرحمن الرحيم
সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহ্ তা’আলার জন্য।অসংখ্য অগণিত  দুরূদ ও সালাম রাসূল (সঃ) এর প্রতি। আল্লাহর  তাআলার প্রথম নির্দেশ হলো 
‎إقرأ باسم ربك الذي خلق “
তোমার রবের নামে পড়”( সূরা আলাক, আয়াত - ১) । তাহলে মানুষের প্রথম কাজ পড়া অর্থ্যাৎ জ্ঞান অর্জন করা। 
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
‎قل هل يستوي الذين يعملون و الذين لا يعملون
যাঁদের জ্ঞান আছে  আর যাদের জ্ঞান নেই  তারা কি  কখনো সমান হতে পারে ? (সূরা যুমার, আয়াত -০৯) । 
আর এই কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে জ্ঞান অর্জন হয় শিক্ষার মাধ্যমে । এজন্যই বলা হয়  শিক্ষাই  জাতির মেরুদণ্ড। মানুষ তার প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে যাচাই-বাচাই, বিচার-বিশ্লেষণ করে জ্ঞানরুপে সংরক্ষণ করে। আর পূর্ব প্রজন্মের অর্জিত জ্ঞানকে আহরণ করার পদ্ধতি হচ্ছে শিক্ষা। জ্ঞানার্জন শিক্ষার একটি প্রধান ও মৌলিক লক্ষ্য । শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তির জ্ঞান ও আচরণের কাঙ্খিত এবং প্রশংসনীয় পরিবর্তন ঘটে। একজন মানুষ শিক্ষা অর্জন করলো কিন্তু তার আচরণে প্রশংসানীয় পরিবর্তন হলো না ; তাহলে সে শিক্ষিত হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যর্থ। তার এই ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তার অর্জিত শিক্ষাক্রমে আধুনিক শিক্ষার সাথে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ের অভাব। যার ফলে সে একজন সার্টিফিকেটধারী মানুষ হিসেবে তৈরি হয় বটে, কিন্তু নৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে তৈরি হয় না । আদর্শবান মানুষ ও একজন দায়িত্ববান সুনাগরিক  গড়ার  লক্ষ্য স্থির করা প্রত্যেক অভিভাবকের গুরু দায়িত্ব । প্রত্যেকটা সন্তানই পিতা মাতার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত ও নেয়ামত । আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার প্রত্যেকটা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন ।
 আল্লাহ তাআলা বলেনঃ- 
ثم لتسئلن يومئذ عن النعيم
অতপর অবশ্যই সেদিন (কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে । (সুরা তাকাসুর, আয়াত -০৮)
রাসূল সাঃ বলেনঃ- 
‎وَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদেরকে দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে । (সহীহ বুখারী - ৮৯৩)
অতএব প্রত্যেক মানুষ তার উপর অর্পিত এই নেয়ামত ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে । এজন্য একজন অভিভাবককে  প্রথমেই তার সন্তানকে একজন আদর্শবান মানুষ গড়ার লক্ষ্য স্থির করতে হবে । সে যেই পেশায় বা যেই কাজে নিয়োজিত থাকুক না কেনো সে একজন আদর্শবান মানুষ হয়ে থাকবে।  তাহলেই আমরা সোনালী যুগ ফিরে পাব ইনশাআল্লাহ ।